জাপানে নতুন চাকরি নিয়ে আসার সময় অনেকেই মোট বেতনের অংক দেখে হিসাব কষেন। কিন্তু জাপানি কর ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলক পেনশন ও সামাজিক বীমার জটিল হিসাব নিকাশ শেষে হাতে যে টাকা অবশিষ্ট থাকে, তা অনেক সময় প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটাই কম হয়। কাজের চুক্তিতে উল্লেখিত বেতনের সাথে দিনশেষে ব্যাংকে জমা হওয়া টাকার পার্থক্য বুঝতেই প্রবাসীদের প্রথম কয়েক মাস কেটে যায়।
মূল বেতন থেকে বাধ্যতামূলক কাটছাঁট
জাপানে বেতনের একটি বড় অংশ আইন অনুযায়ী বিভিন্ন ফান্ডে চলে যায়। ইনকাম ট্যাক্স, রেসিডেন্স ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং পেনশন খাতেই বেতনের আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয়। ফলে আড়াই লাখ ইয়েন বেতনের চুক্তি হলেও সব কেটে হাতে পাওয়া যায় প্রায় দুই লাখ ইয়েনের কাছাকাছি।
এর বাইরে টোকিও বা ইয়োকোহামার মতো বড় শহরগুলোতে বাসা ভাড়া অত্যন্ত চড়া। এক কামরার একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং যাতায়াত খরচ মেটানোর পর সঞ্চয়ের পরিধি বেশ সংকুচিত হয়ে আসে।
ওভারটাইমের নিয়ম ও শারীরিক সীমারেখা
কাজের অতিরিক্ত সময় বা ওভারটাইম করে আয় বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও জাপানের শ্রম আইন এখন অনেক কঠোর। মাসে নির্দিষ্ট ঘণ্টার বেশি ওভারটাইম করার অনুমতি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে থাকে না। অতিরিক্ত কাজের মানসিক চাপ এবং শারীরিক ক্লান্তি প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাস্তবমুখী আর্থিক পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা
জাপানে পা রাখার আগেই মোট আয় নয়, বরং খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট প্রকৃত আয়ের হিসাব করা উচিত। ধার-দেনা করে বা এজেন্সির কথা শুনে অতিরিক্ত প্রত্যাশা নিয়ে এলে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে হয়। সঠিক আর্থিক ধারণা এবং বাস্তবতা মেনে চলাই জাপানে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার প্রধান উপায়।